April 19, 2026, 5:04 pm

অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবির হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তাকবির আহমেদ (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অনলাইন জুয়া ও মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানায় সংস্থাটি।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ-বিপিএম।

পিবিআই জানায়, নিহত তাকবির আহমেদ চাকরির উদ্দেশ্যে বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি বাসা থেকে বের হন। দীর্ঘসময়েও ফিরে না আসায় পরিবার তার ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনের একতলার পূর্ব পাশে একটি কক্ষে তাকবিরের লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। একই দিন তাকবিরের বাবা নূর মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত ২৭ নভেম্বর মামলাটি পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পান। তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মো. হারুন (৩৪) নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করেন। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মো. রফিকুলকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়।

পরে রফিকুলের দেখানো মতে তার বসতঘরের সিলিং থেকে নিহত তাকবিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ, পুলিশ সুপার, পিবিআই, নারায়ণগঞ্জ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মাদক সেবন ও অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা তাকবিরের পিতার কাছে পুরাতন সীম কার্ড ব্যবহার করে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করে।

গত ২৮ নভেম্বর দুই আসামিকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর মহসিনের আদালতে পাঠানো হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআই পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ আরও জানান, “খুনের মোটিভ, ব্যবহৃত উপকরণ এবং আসামিদের কর্মকৌশল আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে মামলার সব দিক যাচাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা